১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার | ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
আজ ১২ এপ্রিল ২০২১, সোমবার ( ৯:৫৪ অপরাহ্ণ)
Home জাতীয় সংবাদ আরিচা-কাজির হাট নৌ রুটে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু

আরিচা-কাজির হাট নৌ রুটে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু

দীর্ঘ২০ বছর পর আরিচা-কাজির হাট নৌরুটে ফেরি সার্ভিস পুনরায় চালু হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, উত্তরবঙ্গের ১৬টি জেলার সঙ্গে আরিচা-কাজির হাট নৌপথ যুক্ত ছিল। তবে বঙ্গবন্ধু সেতু হওয়ার পর থেকে এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এখন যানবাহন বেড়ে গেছে, মানুষের যোগাযোগের গতিও বেড়ে গেছে এই জন্য এই রুটের ফেরি সার্ভিস আবারও চালুর দরকার পড়েছে। তাই যমুনা সেতুর বিকল্প হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আরিচা-কাজিরহাট রুটে আবারও ফেরি সার্ভিস চালু করা হলো।

শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই নৌপথে ফেরি সার্ভিসের উদ্বোধন করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আরিচা প্রান্তে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. তাজুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট গোলাম মহী উদ্দীন, বিআইডব্লিউটিসির ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি মহসিন ভুঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী ফেরি উদ্বোধন করে সেই ফেরিতেই পাবনায় পৌঁছান। সেখানে আয়োহিত সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

কাজিরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান কমোডোর গোলাম সাদেক এর সভাপতিত্বে এসময় আরও বক্তব্য দেন পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আহমেদ ফিরোজ কবীর, পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য নাঈমুর রহমান দুর্জয়, পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ, পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান প্রমুখ।

পাবনার সভায় নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বঙ্গবন্ধু ৭২ সালে ৭টি ড্রেজার সংগ্রহ করেছিলেন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৭টি থেকে ৮টিতে উত্তীর্ণ হয় নাই। ২০০৮ সাল পর্যন্ত এত সরকার এসেছে গেছে কেউ কোনও ড্রেজার সংগ্রহ করেনি। শেখ হাসিনা সরকার গঠন করে প্রথমে ১০টি থেকে এখন ৮০টি ড্রেজার সংগ্রহ করে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে চলেছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা নৌবন্দর ও নৌযানের জন্য বিনিয়োগ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু এই কাজিরহাট-আরিচা ফেরিঘাট নয়, আমরা জামালপুরে আরেকটি নৌপথ তৈরি করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) আরিচা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ২২ ফেরুয়ারি যমুনা নদীতে নাব্য-সংকটের কারণে আরিচা থেকে পাটুরিয়ায় স্থানান্তর করা হয় ফেরি সার্ভিস। এরপর থেকে দেশের অন্যতম নৌবন্দর আরিচায় ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যায়। এতে এই এলাকায় যাত্রী ও মানুষজনের যাতায়াত কমে যাওয়ায় খাবারের দোকান, দোকানপাট, আবাসিক হোটেলসহ বিভিন্ন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের চেনা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড স্তিমিত হয়ে পড়ে।
এ নৌপথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাবনা, কুষ্টিয়া ও সিরাজগঞ্জের অধিকাংশ এলাকার মানুষ রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতে ভোগান্তিতে পড়েছিল। অতিরিক্ত পথ ও ভাড়া দিয়ে তাদেরকে যাতায়াত করতে হতো। এ ছাড়া পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও বঙ্গবন্ধু সেতুতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে যাত্রী ও যানবাহনের। এসব বিষয় বিবেচনা করে সম্প্রতি আরিচা-কাজির হাট নৌপথে আবার ফেরি সার্ভিস চালু করার উদ্যোগ নেয় নৌ মন্ত্রণালয়।

তবে বাধা হয়ে দাঁড়ায় এই নৌপথের নাব্য সংকট। যমুনা নদীর এই নৌপথে নতুন করে চ্যানেল তৈরি করতে নৌপথ খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাঁচটি শক্তিশালী খননযন্ত্র দিয়ে ১২ লাখ ঘনমিটার বালু অপসারণ করা হয়। দুই প্রান্তে ঘাট সচল করতে নৌ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিআইডব্লিউটিএ দুটি ঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়ক ও পন্টুন নির্মাণ, বিকন বাতি, মার্কিং বাতিসহ আনুষাঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নকাজ করে। এতে ১৪ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষামূলকভাবে এই নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু করে। এরপর শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে এই নৌপথে ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন করা হলো।
নৌ প্রতিমন্ত্রীর উদ্বোধন ঘোষণার পর বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে আরিচা ঘাট থেকে বেগম রোকেয়া নামের একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে কাজিরহাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এ ফেরিতে নৌপ্রতিমন্ত্রীসহ তার সঙ্গে থাকা বহর কাজীর হাট এলাকায় যান। এর আধাঘণ্টা পর বীরশ্রষ্ঠ মতিউর রহমান নামের একটি ফেরি বেশ কয়েকটি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে আরিচা থেকে কাজির হাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

  • বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) জিল্লুর রহমান বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় দুটি ফেরি দিয়ে এই নৌপথে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার শুরু করা হয়েছে। যাত্রী ও যানবাহনের ওপর নির্ভর করে পরবর্তীতে এখানে ফেরির সংখ্যা বাড়ানো হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

সর্বাধিক পঠিত