🎓 শিক্ষা ও ক্যাম্পাস

  • নভেম্বরে সীমিত পরিসরে স্কুল-কলেজ খোলার চিন্তা: শিক্ষামন্ত্রী

    নিউজ ডেস্ক: শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, চলতি বছরের নভেম্বর মাসের শেষে সীমতি আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হতে পারে। আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে এমন চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার আগে করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করা হবে।

    বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহাবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক, বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান।

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘গত মার্চ মাস থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। এ জন্য সংসদ টেলিভিশন ও অনলাইন মাধ্যমে ক্লাস করানো হচ্ছে। তবে সশরীরে ক্লাস করানো সম্ভব না হওয়ায় কেউ কেউ পিছিয়ে আছে। তাই সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের সিলেবাস শেষ করা হবে। এরপর একটি মূল্যায়ন পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে।’

    আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষা পেছানো হবে কি না এমন প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘পরীক্ষা পেছানোর এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সেই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে হয়তো নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা না নিয়ে কিছুটা পিছিয়ে আয়োজন করা হবে। তার আগে আমরা সীমিত আকারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। নতুন করে আগামী দুই সপ্তাহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো হয়েছে। ’

🔖 সাহিত্য ও সংস্কৃতি

  • চিঠি

    চিঠি
    —————অংশুমালী বর্ম্মন

    তখন আমি এস.এস.সি. পরীক্ষা দিয়েছি। রেজাল্ট আসার জন্য তিন মাস অপেক্ষা করতে হবে। এ অপেক্ষার সময়টাতে কি করি? দ্বীপ কাকুকে বললাম। কাকু তখন কলেজে পড়তো, আমার এক ব্যাচ সিনিয়র। কাকু বললো, তুমি তো কবিতা লেখো। বাংলা ব্যাকরণ টা আরো ভালো ভাবে জানলে তোমার লেখালেখিতে অনেক হেল্প হবে। বাংলা টা হামিদ স্যারের কাছে পড়তে পারো। কথাটা আমার মনে ধরলো। কাকুর সাথে গেলাম স্যারের সাথে পরিচিত হতে। স্যার বললেন, সকাল সাড়ে সাতটার সময় এসো। আমি পড়তে যাওয়া শুরু করলাম। এখানে বলে রাখা ভালো, আমাদের গ্রামের আশে পাশের অনেক ছাত্র ছাত্রী পীরগঞ্জে পড়তে যায়। আর তারা আমাদের গ্রামের বাজারে এসে এখান থেকে বাস, অটো করে পীরগঞ্জে যায়। দু চার দিনে অনেকের সাথে পরিচিত হলাম। তাদের কারো কারো সাথে আমার বেশ ভাবও জমে গেল। কেউ সিনিয়র, তো কেউ জুনিয়র। আমার সমবয়সী কাউকে পেলাম না। তখন স্থানীয় দু একটা পত্রিকায় কবিতা পাঠাতাম। পত্রিকাওয়ালারা ছেপে দিতো। আমার বেশ ভালো লাগতো। উৎসাহও পেতাম। একদিকে হয়েছে কি, একটা খাম নিয়ে গেছি। খামের উপরে পত্রিকার ঠিকানা লেখা। খাম হাতে ধরে আছি। আমার চেয়ে দু’বছরে সিনিয়র এক আপু আমাকে বললো- কিসের খাম ওটা। আমি বললাম, একটা পত্রিকায় লেখা পাঠাবো। আপা বললো, পোস্ট অফিসে যাবে?
    হ্যাঁ আপা যাবো। কেন?
    তখন আপা আমাকে একটা চিঠির খাম দিলেন। আর রেজিস্ট্রি করার খরচ দিলেন। বললেন, পোস্ট করে দিও। চিঠির খামটা চিঠিসহ পিন আপ করা ছিল। তাই সেটা খুলে দেখার কোন প্রশ্নই আসে না। তবুও তিনি বার বার বললেন, চিঠিটা খুলিও না। অতি গোপনীয় চিঠি। কারো হাতে দিও না। নিজ হাতে পোস্ট করবে।
    আমি বললাম, ঠিক আছে, আমি নিজ হাতেই পোস্ট করবো। চিঠিটা পকেটে রেখে দিলাম। কোচিং শেষে পোস্ট অফিসে যাচ্ছি। কিন্তু কেন জানি না, আপার কথা আমার মনে বার বার খোঁচা দিচ্ছে। “চিঠিটা খুলিও না, অতি গোপনীয় চিঠি। নিজের মনের সাথে যুদ্ধে বিবেক হেরে গেল। অতি কৌতূহলী হয়ে পোস্ট অফিসে গিয়ে চিঠিটার পিন খুললাম। তারপর পড়তে শুরু করলাম।
    প্রিয় নির্ঝর,
    জানি তুমি ভালোই আছ। আর ভালো থাকারই কথা। তোমার মতো মানুষেরা মানুষকে কাঁদিয়ে বেশ ভালোই থাকে। তোমার মনে পড়ে কি না, জানি না। তোমার সাথে আমার ভুল ক্ষণেই দেখা হয়েছিল। তোমার দৈহিক সৌন্দর্য, কথা বলার ভঙ্গি, তোমার মুগ্ধ করার মতো আচার-আচরণ, আর প্রণয়, এসব কিছুতে আমি এতটাই মজে গেছিলাম যে, আমি বুঝতেই পারিনি, তোমার আমার ব্যবধান। তোমার বাবা ধনী আর আমার বাবা ছিল গরীব। আমি শুধু গ্রহণ করতে পারি তোমার দেয়া দান। কিন্তু তুমি আমাকে যে দান দিলে তা গ্রহণ করার পরিণাম আমাকে কতটা নিঃস্ব করেছে। তা তোমাকে কখনোই বোঝাতে পারবো না। বাবা- মা, আমার ছোট-ভাই বোন, সবার কাছে তুমি আমাকে এতটাই ছোট করে দিলে,যে আমৃত্যু আমি আর মাথা উঁচু করে কখনো কোনদিন কোনো কথা বলতে পারবো না। তাদের দেয়া গঞ্জনা সহ্য করতে হবে আমাকে। আমার একটা ভুলের পরিণাম যে এতটা যোগাতে হবে নির্ঝর, তা আমি কখনো ভাবি নি।
    আচ্ছা, দোষটা কি আমারই ছিল। তোমার কোনো দোষ ছিল না। কেন তুমি আমার সাথে দৈহিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলে, যদি তুমি তার পরিণাম স্বীকার করতে পারবে না, তো কি আবশ্যকতা ছিল আমাকে কুমারী মা বানানোর।
    নির্ঝর, তুমি জানো না। তুমি চলে যাওয়ার পর আমার শরীরের পরিবর্তন দেখে আমার মা আমাকে কতটা লাঞ্ছনা গঞ্জনা দিয়েছে। আমি আত্মহত্যা করতে গেছিলাম সে রাতেই, কিন্তু আমার গর্ভের সন্তানটির কথা ভেবে আমি সেদিন মরতে পারি নি। আমাকে মরতে দেয় নি, আমার সন্তান। সে যেন আমাকে বলেছিল, মা, মাগো, আমাকে মেরো না। আমাকে মেরো না মা। আমাকে পৃথিবীর আলো দেখতে দাও। আমি তোমার সব কষ্ট দূর করবো মা।
    অবশেষে বড় খালার বড় মেয়ে শানু আপার সাথে কথা বলেছিল মা। শানু আপার বিয়ের বয়স দশ বছর হলেও সন্তান হচ্ছিল না। দুলাভাই আর শানু আপা এ ঘটনা শোনার পর তারা আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে গেছিলো। সেখানেই বাবুর জন্ম হয়। কত কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে। তখন শুধু তোমার কথা মনে হতো। তুমি তখন পাশে থাকলে হয়তো একটু হলেও ভালো অনুভব হতো। প্রতিটা মহূর্তে যে তিল তিল করে প্রসব বেদনায় মরে যাচ্ছিলাম, তার থেকে বাঁচতাম। এখন আমি বাড়িতে। আমাদের বাবুর বাবা- মা এখন দুলাভাই আর শানু আপা। বাবু দেখতে ঠিক তোমার মতো হয়েছে। ঠিক তোমার মতো।
    যদি সময় হয়, একদিন বাবুকে দেখতে যেও। আর আমি কি বলবো তোমাকে। তোমাকে ভালবেসেছি বলে তার ঋণ আমাকে আজীবন শোধ করতে হবে। তোমার কাছে আমার আর কোনো দাবী নেই। তুমি সুখে থেকো, আর বাবুর জন্য দোয়া করিও। আর আরেকটা কথা, শানু আপা বাবুর নাম রেখেছে মঈন। মঈন উদ্দীন। যদি সম্ভব হয়, তবে কিছু লিখিও, আর ভালো থেকো।
    ইতি
    তোমার
    শাহনাজ পারভীন
    জোনাকিতলা।
    চিঠিটা পড়া শেষ হতে আমার বুকের ভিতরটা কেমন যেন করে উঠলো। কাঁপা হাতে চিঠিটা ভাঁজ করে খামে ঢুকিয়ে দিলাম, পিন আপ করে, পোস্ট করলাম। পোস্ট অফিস থেকে বের হয়ে মনে হলো, কেন যে পড়তে গেলাম আমি। এ ভুলের জন্য আমি সত্যি অনুতপ্ত। আজ এ ঘটনার তের বছর পূর্ণ হলো। জানি না শাহনাজ আপু কেমন আছে, কোথায় আছে। কে নির্ঝর, আর বাবু, যে কিনা মঈন, সে কত বড় হয়েছে। অনেক গুলো প্রশ্ন ভিড় করে আমার মনে। আজও চিঠির কথা মনে পড়লে মনটা বিষিয়ে উঠে। আর ঐ আপুর কথা মনে পড়ে, চিঠিটা খুলিও না, অতি গোপনীয় চিঠি।